৩০,০০০ টাকার মধ্যে সেরা ৬ ক্যামেরা ফোন ২০২৬ | Best Camera Phone
৩০,০০০ টাকার মধ্যে ২০২৬ সালের সেরা ৬টি ক্যামেরা ফোন – ছবি ও ভিডিওর জন্য কোনটি সেরা?
একটা ভালো ছবি তোলার জন্য এখন আর আলাদা ক্যামেরা কিনতেই হবে-এমনটা নয়। স্মার্টফোনের ক্যামেরা প্রযুক্তি গত কয়েক বছরে অনেকটাই এগিয়েছে। বিশেষ করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার বাজেটে এখন এমন কিছু ফোন পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলো দিয়ে দিনের আলোতে ছবি তোলার পাশাপাশি রাতের ছবি, পোর্ট্রেট, সেলফি এবং ভিডিও রেকর্ডিংও বেশ ভালোভাবে করা যায়।
তবে শুধু ক্যামেরায় ১০৮MP, ৫০MP বা ২০০MP লেখা থাকলেই ফোনটি সেরা ক্যামেরা ফোন হয়ে যায় না। ছবির মান নির্ভর করে সেন্সরের আকার, OIS, লেন্স, প্রসেসিং, HDR, সফটওয়্যার এবং ভিডিও স্ট্যাবিলাইজেশনের ওপরও। তাই ২০২৬ সালে ৩০,০০০ টাকার মধ্যে ক্যামেরা ফোন বাছাই করার সময় শুধু মেগাপিক্সেল না দেখে পুরো ক্যামেরা সিস্টেম বিবেচনা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান বাংলাদেশি বাজার, অফিসিয়াল তথ্য, ক্যামেরা ফিচার এবং ব্যবহারিক প্রয়োজন বিবেচনায় এই বাজেটে আমার পছন্দের পাঁচটি ফোন হলো TECNO Camon 40, HONOR X8c, CMF Phone 2 Pro, realme 14 5G এবং vivo V50 Lite। তবে কোন ফোন আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে, সেটি নির্ভর করবে আপনি ছবি, পোর্ট্রেট, ভিডিও নাকি সেলফিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তার ওপর। তাই পুরো আর্টিকেলটি পড়লে আপনার নিজের জন্য কোন ফোনটি বেশি উপযুক্ত তা সহজেই বুঝতে পারবেন।
এক নজরে সেরা ৬টি ক্যামেরা ফোন
দাম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কথাঃ স্মার্টফোনের দাম দোকান, অফার, ভ্যারিয়েন্ট ও VAT অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নিচের দামগুলো ২৫ আগস্ট ২০২৬-এর আশপাশের পাওয়া তথ্য ধরে দেওয়া হয়েছে।
১। TECNO Camon 40 – ৩০ হাজারের মধ্যে ক্যামেরার জন্য অন্যতম সেরা
ক্যামেরাকে যদি আপনার ফোন কেনার প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়, তাহলে TECNO Camon 40 তালিকার শুরুতেই রাখার মতো একটি ফোন। CAMON সিরিজ দীর্ঘদিন ধরেই মোবাইল ফটোগ্রাফিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বাংলাদেশে এর দাম প্রায় ২৪ হাজার টাকার আশেপাশে পাওয়া যাচ্ছে, ফলে ৩০ হাজার টাকার বাজেটের মধ্যে এটি বেশ আকর্ষণীয় একটি অপশন। সাম্প্রতিক বাংলাদেশি বাজারতথ্যেও 8GB+256GB ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ২৩,৯৯৯ টাকা দেখানো হয়েছে। (TechTunes)
এই ফোনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ক্যামেরা-কেন্দ্রিক সেটআপ। পাওয়া স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী এতে ৫০MP OIS ক্যামেরা রয়েছে এবং AMOLED 120Hz ডিসপ্লেও পাওয়া যায়। (Mobile Bondhu)
OIS থাকার কারণে হাত সামান্য কাঁপলেও ছবি তুলতে সুবিধা হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যা বা রাতের ছবি তোলার সময় এটি কাজে আসে। দিনের আলোতে ছবি তুললে ভালো ডিটেইল এবং রঙ পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।
আরেকটি বিষয় হলো—ক্যামেরা ভালো হলেও ফোনের বাকি অংশ একেবারে দুর্বল নয়। AMOLED 120Hz ডিসপ্লে সোশ্যাল মিডিয়া, YouTube ও সাধারণ ব্যবহারে ভালো অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
২। HONOR X8c – OIS ক্যামেরা ও সুন্দর পোর্ট্রেটের জন্য
৩০ হাজার টাকার সীমার একেবারে কাছাকাছি থাকা HONOR X8c ক্যামেরার দিক থেকে বেশ আকর্ষণীয়। HONOR Bangladesh-এর তথ্য অনুযায়ী ফোনটির 8GB+512GB ভ্যারিয়েন্টের দাম ২৯,৯৯৯ টাকা এবং এতে 108MP মূল ক্যামেরার সঙ্গে OIS ও 5MP wide camera রয়েছে। (HONOR)
শুধু 108MP দেখে ফোনটি বিচার করলে ভুল হবে। এখানে OIS-ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। OIS ক্যামেরাকে স্থির রাখতে সাহায্য করে, ফলে কম আলোতে ছবি তোলা এবং হাত কাঁপার কারণে ছবি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
HONOR X8c-এর AMOLED 120Hz ডিসপ্লেও ফোনটির একটি বড় সুবিধা। 6.7-inch AMOLED ডিসপ্লে এবং উচ্চ refresh rate ছবি দেখা, ভিডিও দেখা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সুন্দর অভিজ্ঞতা দিতে পারে। (HONOR)
আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো 512GB স্টোরেজ। যারা নিয়মিত ছবি ও ভিডিও করেন, তাদের জন্য বড় স্টোরেজ বেশ কাজে লাগে।
৩। CMF Phone 2 Pro – 2x optical zoom-এর জন্য সেরা পছন্দগুলোর একটি
অনেক ফোনেই ৫০MP বা ১০৮MP ক্যামেরা থাকলেও আসল সুবিধা পাওয়া যায় না যদি ভালো zoom camera না থাকে। এই জায়গায় CMF Phone 2 Pro অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা।
বাংলাদেশের বাজারে এর 8GB+128GB ভ্যারিয়েন্ট প্রায় ২৬,৬০০ টাকা এবং 8GB+256GB প্রায় ২৯,৪০০ টাকার আশেপাশে পাওয়া যাচ্ছে বলে সাম্প্রতিক বাজারতথ্যে দেখা যাচ্ছে। (PriceKoto)
ফোনটির পেছনে ৫০MP main camera-এর পাশাপাশি ৫০MP telephoto camera রয়েছে, যা 2x optical zoom দিতে পারে। এছাড়া 8MP ultrawide camera-ও আছে। (CMF Bangladesh)
এখানে 2x optical zoom একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। দূরের কোনো বিষয়কে কাছে এনে ছবি তুলতে চাইলে সাধারণ digital zoom-এর তুলনায় optical zoom বেশি কার্যকর। বিশেষ করে portrait বা মানুষকে একটু দূর থেকে ছবি তোলার সময় এটি কাজে আসতে পারে।
ভিডিওর ক্ষেত্রেও ফোনটি 4K 30fps recording সমর্থন করে বলে বাজারতথ্যে উল্লেখ রয়েছে। (CMF Bangladesh)
৪। realme 14 5G – ক্যামেরা ও ভিডিওর ভালো ভারসাম্য
realme 14 5G এমন ব্যবহারকারীদের জন্য ভালো বিকল্প যারা ক্যামেরার পাশাপাশি 5G, AMOLED display এবং শক্তিশালী ব্যাটারিও চান।
realme-এর বাংলাদেশি অফিসিয়াল স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ফোনটিতে ৫০MP OIS AI camera রয়েছে। ৫০MP ক্যামেরাটিতে OIS এবং EIS—দুই ধরনের stabilization সুবিধা রয়েছে। সবচেয়ে ভালো বিষয়গুলোর একটি হলো এটি 4K 30fps ভিডিও রেকর্ড করতে পারে। (Realme)
এছাড়া ফোনটিতে Snapdragon 6 Gen 4 5G chipset, 120Hz AMOLED display এবং 6000mAh battery রয়েছে। (Realme)
ক্যামেরার ক্ষেত্রে OIS থাকায় স্থির ছবি এবং low-light photography-তে সুবিধা পাওয়া যায়। আর 4K ভিডিও সাপোর্ট থাকায় যারা মোবাইল দিয়ে ভিডিও বানান, তাদের জন্য এটি আকর্ষণীয়।
realme-এর অফিসিয়াল পেজে AI Shutter, AI Snap Mode এবং AI Eraser-এর মতো ফিচারের কথাও বলা হয়েছে। (Realme)
৫। vivo V50 Lite – সেলফি ও পোর্ট্রেটের জন্য আকর্ষণীয়
সেলফি ও portrait photography-কে গুরুত্ব দিলে vivo V50 Lite তালিকায় রাখা যায়। vivo Bangladesh-এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী 8GB+128GB ভ্যারিয়েন্টের দাম ২৯,৯৯৯ টাকা। (Vivo)
ফোনটিতে ৫০MP Sony IMX882 main camera এবং 32MP front camera রয়েছে। পিছনের ক্যামেরার সঙ্গে Aura Light-ও রয়েছে, যা portrait photography-তে অতিরিক্ত আলো দিতে সাহায্য করে। (Vivo)
vivo বিশেষভাবে এর 2x professional portrait feature-এর কথা বলেছে। অর্থাৎ মানুষ বা portrait ছবি তোলার সময় ফ্রেমিংয়ের জন্য 2x zoom ব্যবহার করা যায়। (Vivo)
32MP selfie camera-ও এই ফোনের বড় আকর্ষণ। যারা নিয়মিত selfie, family photo বা social media content তৈরি করেন, তাদের জন্য এটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
এছাড়া 6500mAh battery এবং 90W charging রয়েছে। 120Hz AMOLED display-ও পাওয়া যাচ্ছে। (Vivo)
তবে মনে রাখবেনঃ এটি 4G ফোন। তাই 5G আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলে realme 14 5G বা অন্য 5G মডেল বিবেচনা করা ভালো।
হ্যাঁ—আগের লেখার ৪ নম্বরটি “realme 14 5G” নয়, “realme P4 5G” হলে অংশটি এভাবে সংশোধন করা ভালো। অফিসিয়াল realme তথ্য অনুযায়ী P4 5G-তে 50MP AI main camera, 8MP ultrawide, 16MP selfie এবং rear camera-তে 4K 30fps ভিডিও সাপোর্ট রয়েছে। (Realme)
৬। realme P4 5G – ক্যামেরা ও ভিডিওর ভালো ভারসাম্য
৩০ হাজার টাকার মধ্যে ক্যামেরা ও ভিডিও—দুটো দিকই যদি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে realme P4 5G তালিকায় রাখার মতো একটি ভালো অপশন। ফোনটিতে 50MP AI main camera-এর পাশাপাশি 8MP ultrawide camera রয়েছে। ফলে সাধারণ ছবি তোলার পাশাপাশি landscape, group photo বা বড় দৃশ্য ধারণের সময় ultrawide ক্যামেরাটিও কাজে আসে। (Realme)
realme P4 5G-এর প্রধান ক্যামেরায় f/1.8 aperture এবং autofocus রয়েছে। ক্যামেরায় Portrait, Night, Panorama, Cinematic, Slow Motion, Long Exposure এবং Pro-এর মতো একাধিক shooting mode পাওয়া যায়। অর্থাৎ শুধু সাধারণ point-and-shoot নয়, একটু ভিন্ন ধরনের ছবি তোলার সুযোগও রয়েছে। (Realme)
ভিডিওর জায়গাতেও ফোনটি বেশ শক্তিশালী। অফিসিয়াল স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী rear camera দিয়ে 4K 30fps ভিডিও রেকর্ড করা যায়। পাশাপাশি 1080p 60fps এবং 30fps recording-এর সুবিধাও রয়েছে। 4K 30fps এবং 1080p 60fps-এ EIS/OIS video support-ও উল্লেখ করা হয়েছে, যা ভিডিও ধারণের সময় স্থিরতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। (Realme)
সেলফির জন্য রয়েছে 16MP AI front camera। এটি 1080p 30fps পর্যন্ত ভিডিও রেকর্ড করতে পারে এবং selfie portrait, night ও dual-view video-এর মতো ফিচারও রয়েছে। তাই Facebook, Instagram, TikTok বা সাধারণ ভিডিও কলের পাশাপাশি হালকা content creation-এর জন্যও ফোনটি ব্যবহার করা যেতে পারে। (Realme)
ক্যামেরার বাইরেও realme P4 5G-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। এতে Dimensity 7400 Ultra 5G chipset, 144Hz HyperGlow AMOLED display এবং 7000mAh battery রয়েছে। 80W charging-ও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এটি শুধু ক্যামেরা ফোন নয়; দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার, ভিডিও দেখা, gaming এবং 5G connectivity-এর দিক থেকেও বেশ ভালোভাবে ভারসাম্য রাখে। (Realme)
কার জন্য realme P4 5G ভালো?
যারা ক্যামেরা + 4K ভিডিও + 5G + AMOLED display + বড় battery—সবকিছু একসঙ্গে চান, তাদের জন্য realme P4 5G একটি আকর্ষণীয় পছন্দ। বিশেষ করে যারা মোবাইল দিয়ে নিয়মিত ছবি তোলেন এবং মাঝেমধ্যে ভিডিও তৈরি করেন, তাদের জন্য ফোনটির camera setup বেশ কার্যকর হতে পারে।
যে বিষয়টি মাথায় রাখবেন
realme P4 5G-এর মূল ক্যামেরা 50MP হলেও এটি মূলত একটি versatile all-rounder camera setup। আপনি যদি বিশেষভাবে optical zoom বা dedicated telephoto camera চান, তাহলে telephoto camera থাকা অন্য কোনো ফোন আপনার জন্য বেশি উপযোগী হতে পারে।
সংক্ষেপেঃ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে এমন একটি 5G ফোন চাইলে যেখানে ক্যামেরা, 4K ভিডিও, ডিসপ্লে, পারফরম্যান্স ও battery—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য থাকবে, realme P4 5G অবশ্যই বিবেচনা করা যায়।
কোন ফোনের ক্যামেরা কেমন?
সব ফোনকে একসঙ্গে বিচার করলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়।
৩০ হাজার টাকার মধ্যে ক্যামেরা ফোন কিনতে কী কী দেখবেন?
অনেকে ফোন কিনতে গিয়ে শুধু ১০৮MP বা ২০০MP দেখে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ক্যামেরার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি নয়।
প্রথমে দেখুন OIS আছে কি না। OIS হাতে কাঁপুনি কমাতে সাহায্য করে এবং কম আলোতে ছবি তোলার সময় বেশ কাজে লাগে।
এরপর দেখুন সেন্সরের আকার। একই ৫০MP হলেও বড় সেন্সর সাধারণত বেশি আলো গ্রহণ করতে পারে। তাই শুধু megapixel নয়, sensor size-ও গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয় বিষয় হলো ultrawide camera। Landscape, group photo বা বড় কোনো স্থাপনার ছবি তুলতে ultrawide lens দরকার হতে পারে।
চতুর্থ বিষয় telephoto বা optical zoom। আপনি যদি portrait বা দূরের বিষয় বেশি ছবি তোলেন, তাহলে 2x optical zoom থাকা ফোনের সুবিধা অনেক।
পঞ্চম বিষয় ভিডিও stabilization। যারা Facebook, YouTube বা অন্য সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করেন, তাদের জন্য OIS/EIS গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে camera processing-কে গুরুত্ব দিন। ভালো hardware থাকলেও software processing দুর্বল হলে ছবির ফলাফল প্রত্যাশামতো নাও হতে পারে।
৩০ হাজার টাকার মধ্যে কোন ফোনটি আমি কাকে সাজেস্ট করব?
আপনার বাজেট যদি প্রায় ২৪ হাজার টাকা হয় এবং ক্যামেরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে TECNO Camon 40 দেখতে পারেন।
যদি OIS + 512GB storage চান, তাহলে HONOR X8c আকর্ষণীয়।
যদি 2x optical zoom ও portrait বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে CMF Phone 2 Pro ভালো পছন্দ।
যদি 5G + 4K video + OIS চান, তাহলে realme 14 5G বেশি মানানসই।
আর যদি selfie + portrait + বড় battery চান, তাহলে vivo V50 Lite বিবেচনা করতে পারেন।
আমার মতে সেরা ৫-এর চূড়ান্ত তালিকা
১ নম্বর – TECNO Camon 40: ক্যামেরা-কেন্দ্রিক বাজেটের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
২ নম্বর – HONOR X8c: OIS, 108MP camera ও 512GB storage-এর কারণে শক্তিশালী বিকল্প।
৩ নম্বর – CMF Phone 2 Pro: 2x optical zoom থাকার কারণে portrait ও zoom photography-তে এগিয়ে।
৪ নম্বর – realme 14 5G: 5G, OIS এবং 4K video-এর ভালো সমন্বয়।
৫ নম্বর – vivo V50 Lite: selfie, portrait ও battery backup-এর জন্য ভালো।
৬ নম্বর - realme P4 5G: শুধু ক্যামেরা ফোন নয়; দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার, ভিডিও দেখা, gaming এবং 5G connectivity-এর দিক থেকে বেশ ভালো।
তবে এই ranking-কে একেবারে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে না দেখে আপনার ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো। কারণ একজনের কাছে সেরা ক্যামেরা ফোন হতে পারে যেটিতে zoom camera আছে, আবার অন্য একজনের কাছে selfie camera-ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্নোত্তর–৩০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ক্যামেরা ফোন
প্রশ্নঃ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে কোন ফোনের ক্যামেরা সবচেয়ে ভালো?
উত্তরঃ একটি ফোনকে সবার জন্য এক নম্বরে রাখা কঠিন। ক্যামেরা-কেন্দ্রিক ব্যবহারে TECNO Camon 40, OIS-এর জন্য HONOR X8c, zoom-এর জন্য CMF Phone 2 Pro এবং ভিডিওর জন্য realme 14 5G-প্রতিটিই আলাদা জায়গায় ভালো।
প্রশ্নঃ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে 108MP ক্যামেরার ফোন আছে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ। HONOR X8c-তে 108MP main camera রয়েছে এবং OIS-ও রয়েছে। HONOR Bangladesh-এর তথ্য অনুযায়ী 8GB+512GB মডেলের দাম ২৯,৯৯৯ টাকা। (HONOR)
প্রশ্নঃ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে OIS ক্যামেরা ফোন কোনগুলো?
উত্তরঃ এই তালিকায় TECNO Camon 40, HONOR X8c এবং realme 14 5G-তে OIS সুবিধা রয়েছে। (Mobile Bondhu)
প্রশ্নঃ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে 4K ভিডিও করা যায় এমন ফোন কোনটি?
উত্তরঃ realme 14 5G-এর অফিসিয়াল স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী এটি 4K 30fps ভিডিও রেকর্ড করতে পারে। CMF Phone 2 Pro-ও 4K 30fps ভিডিও সাপোর্ট করে। (Realme)
প্রশ্নঃ সেলফির জন্য কোন ফোন ভালো?
উত্তরঃ এই তালিকায় vivo V50 Lite উল্লেখযোগ্য, কারণ এতে 32MP front camera রয়েছে। ফোনটিতে 50MP Sony IMX882 rear camera এবং portrait-এর জন্য Aura Light-ও রয়েছে। (Vivo)
প্রশ্নঃ শুধু বেশি MP দেখেই কি ক্যামেরা ফোন কেনা উচিত?
উত্তরঃ না। Megapixel গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি ক্যামেরার মান নির্ধারণের একমাত্র বিষয় নয়। Sensor size, OIS, lens quality, image processing, HDR এবং video stabilization-ও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্নঃ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে portrait-এর জন্য কোন ফোন ভালো?
উত্তরঃ Portrait-এর জন্য CMF Phone 2 Pro এবং vivo V50 Lite ভালো বিকল্প। CMF Phone 2 Pro-তে 50MP telephoto camera ও 2x optical zoom রয়েছে, আর vivo V50 Lite-এ 2x professional portrait সুবিধা রয়েছে। (CMF Bangladesh)
প্রশ্নঃ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে 5G ক্যামেরা ফোন চাইলে কোনটি নেব?
উত্তরঃ 5G-এর পাশাপাশি ক্যামেরাকে গুরুত্ব দিলে realme 14 5G একটি শক্তিশালী বিকল্প। এতে 50MP OIS camera, 4K 30fps video এবং Snapdragon 6 Gen 4 5G chipset রয়েছে। (Realme)
প্রশ্নঃ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে বড় স্টোরেজের ক্যামেরা ফোন কোনটি?
উত্তরঃ HONOR X8c-এর 8GB RAM এবং 512GB storage configuration বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। যারা অনেক ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করেন, তাদের জন্য এই বড় storage সুবিধাজনক। (HONOR)
প্রশ্নঃ ২০২৬ সালে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ক্যামেরা ফোন কিনলে কী সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেব?
উত্তরঃ আমার পরামর্শ হলো প্রথমে আপনার ব্যবহারের ধরন ঠিক করুন। ছবি বেশি তুললে sensor ও OIS দেখুন, portrait বেশি তুললে telephoto/2x zoom দেখুন, ভিডিও করলে 4K ও stabilization দেখুন এবং selfie বেশি করলে front camera ও portrait processing দেখুন। শুধু 108MP বা 200MP লেখা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
sfsgsgsgs
শেষ কথা
২০২৬ সালে ৩০,০০০ টাকার মধ্যে ভালো ক্যামেরা ফোনের অভাব নেই। বরং এই বাজেটে প্রতিযোগিতা এতটাই বেড়েছে যে একই দামের ফোনে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ক্যামেরা সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। কেউ দিচ্ছে বড় megapixel sensor, কেউ OIS, কেউ telephoto zoom, আবার কেউ selfie ও portrait photography-তে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
আমার দৃষ্টিতে TECNO Camon 40 ক্যামেরা-কেন্দ্রিক বাজেটের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয়, HONOR X8c OIS ও বড় storage-এর কারণে ভালো, CMF Phone 2 Pro zoom-এর জন্য আলাদা সুবিধা দেয়, realme 14 5G ছবি ও ভিডিওর ভারসাম্য তৈরি করে এবং vivo V50 Lite selfie ও portrait ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ ভালো একটি প্যাকেজ।
তবে ফোন কেনার আগে দোকানে গিয়ে বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ দাম, warranty, RAM/ROM variant এবং stock availability নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো। কারণ বাংলাদেশের বাজারে স্মার্টফোনের দাম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url