ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম | ফজিলত, দোয়ার শক্তি ও গভীর তাৎপর্য
ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম | ফজিলত, দোয়ার শক্তি ও গভীর তাৎপর্য জেনে নিন।
ইসলামে আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য সুন্দর ও অর্থবহ গুণবাচক নাম রয়েছে, যা একজন মুমিনের জীবনে শুধু দিকনির্দেশনা নয়, বরং শক্তি ও আশা জোগায়। সেই নামগুলোর মধ্যেই একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ নাম হলো “ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম”। এই নাম আল্লাহর অনন্ত মহিমা, সম্মান ও ক্ষমতার প্রতীক। মুসলিমেরা দোয়ার সময় বা আল্লাহর প্রশংসা করতে চাইলে এই নামটি বিশেষ ভক্তি নিয়ে উচ্চারণ করে থাকেন। নামটির অর্থ এবং ফজিলত গভীরভাবে উপলব্ধি করলে আল্লাহর প্রতি মানুষের ভরসা, ভালোবাসা এবং আনুগত্য আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
চলুন এই আর্টিকেলে আমরা জেনে নিই, ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম | ফজিলত, দোয়ার শক্তি ও গভীর তাৎপর্য সম্পর্কে।ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম | ফজিলত ও তাৎপর্য
ইবাদতের জগতে কিছু কিছু দোয়া আছে, যেগুলো মানুষকে ভেতর থেকে আশ্বস্ত করে। এমন দোয়া যার শব্দ উচ্চারণ করলেই মনে হয়-এই দোয়া শুধু মুখের শব্দ নয়, হৃদয়ের গভীর থেকে বেরিয়ে আসে। ঠিক এমনই এক অলৌকিক, নূরানী বাক্য হলো-“ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম”।
এই দোয়া বা আসল নাম “আল্লাহর একটি সুন্দর গুণবাচক নাম”। ইসলামি সূত্রে জানা যায়, রাসুল (সা.) নিজেও এই নাম দ্বারা দোয়া করতেন। আর আলেমরা বলেন-যে মানুষ আন্তরিকভাবে এই নাম ধরে দোয়া করে, তার দোয়া খুব দ্রুত কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা খুব সহজভাবে, গল্পের আকারে জানবো-এই দোয়ার ফজিলত, তাৎপর্য, অর্থ ও আমল কীভাবে করবেন।
ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম-এর অর্থ কী?
এই আরবি বাক্যটি খুব ছোট, কিন্তু এর ভিতরে রয়েছে অনেক গভীর অর্থ।
-
ইয়া = হে
-
জাল জালালি = যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা, মহিমা ও শক্তির মালিক
-
ওয়াল ইকরাম = যিনি দয়ালু, সম্মানদানকারী, অনুগ্রহকারী
সহজ ভাষায় অর্থ দাঁড়ায়-“হে মহিমা ও মর্যাদার মালিক, হে সম্মান ও অনুগ্রহদাতা!”
অর্থ খুবই সাধারণ, কিন্তু এই শব্দগুলো উচ্চারণ করলে মনে হয়, যেন এক ধরনের শান্তি বুক ভরে আসে।
রাসুল (সা.) কেন এই নাম দিয়ে দোয়া করতেন?
হাদিসে রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করতে গিয়ে প্রায়ই বলতেন-
“ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম।”
আলেমরা বলেন-এটি এমন একটি মহান গুণবাচক নাম, যা দিয়ে দোয়া করলে তা “দোয়ার দরজায় দ্রুত কড়া নাড়ে।”
অর্থাৎ, অন্যভাবে বললে-যখন মানুষ এই নাম ধরে দোয়া করে, তখন আল্লাহর দরবারে তার আবেদনটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম ১০০ বার পড়লে কী ফজিলত হয়?
“ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম” আল্লাহর এমন একটি গুণবাচক নাম, যা তাঁর মহিমান্বিত শক্তি, ক্ষমা ও অনুগ্রহকে স্মরণ করিয়ে দেয়। অনেকে নিয়মিত এই দোয়াটি ১০০ বার পড়ে থাকেন, কারণ ধারাবাহিকভাবে এই জিকির করলে মন ও জীবনে দারুণ পরিবর্তন আসে। ইসলামী সূত্র ও আলেমদের মতে, যে ব্যক্তি নিয়মিত এই দোয়া পড়ে, বিশেষ করে একাগ্রতা নিয়ে ১০০ বার পড়ে, তার অন্তর নরম হয়, দুশ্চিন্তা কমে এবং দোয়া কবুলের দরজা বেশি খোলা থাকে। এ দোয়াটি এমনভাবে আল্লাহকে ডাকতে শেখায়, যাতে মানুষ বুঝতে পারে-জীবনের সব সমস্যার সমাধান তাঁর হাতেই।
অনেকের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, নিয়মিত ১০০ বার পড়লে রিজিকের সংকট দূর হয়, কাজে বরকত বাড়ে এবং অন্তরে স্থিরতা তৈরি হয়। সবচেয়ে বড় কথা, এ দোয়া মানুষকে আল্লাহর কাছে আরও বেশি বিনয়ী ও কৃতজ্ঞ করে তোলে। তাই প্রতিদিন সকালে বা রাতে নিরিবিলি সময়ে একটু মনোযোগ নিয়ে ১০০ বার পড়া-হৃদয়ের জন্য এক অসাধারণ প্রশান্তি ও আমলের সৌন্দর্য এনে দেয়।
"ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম" এই দোয়ার ফজিলত কী?
ইসলামি পণ্ডিতদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই নামের ফজিলত অসাধারণ। নিচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকারগুলো তুলে ধরা হলো-
১। দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়ে
আল্লাহর এই নামটি তাঁর মহিমা এবং অনুগ্রহ প্রকাশ করে। তাই এই নাম ধরে মিনতি করলে দোয়া দ্রুত কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২। বিপদ, কষ্ট ও হতাশা দূর হয়
অনেকে বলেন-মন ভেঙে গেলে বা অজানা ভয় কাজ করলে ধীরে ধীরে এই দোয়া পড়লে মানসিক শান্তি ফিরে আসে।
৩। রিজিকের বরকত আসে
বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা বা যারা আয়-রোজগারে চিন্তায় ভুগছেন, তারা নিয়মিত আমল করলে রিজিকে প্রশান্তি পান।
৪। গুনাহ মাফের আশা বৃদ্ধি পায়
অন্তর থেকে পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে এই দোয়া সেই তওবা আরও গ্রহণযোগ্য করে।
৫। দুশ্চিন্ত ও টেনশন কমে যায়
আল্লাহর মহিমা স্মরণ করলে চিন্তা-স্ট্রেস ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
কখন পড়লে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়?
অনেকে প্রয়োজনের মুহূর্তে দোয়া করে, কিন্তু নিয়মিত পড়া আরও বেশি ফলপ্রসূ।
- তাহাজ্জুদের সময়
রাতের নিস্তব্ধ মুহূর্তে এই দোয়া উচ্চারণ করলে হৃদয় খুব নরম হয়ে যায়, আর দোয়া কবুলের সম্ভাবনাও বেশি।
- নামাজ শেষে
ফরজ নামাজের পর কয়েকবার পড়লে দিনের কাজগুলোতে বরকত নেমে আসে।
- রিজিকের সংকটে
ব্যবসায় বা চাকরিতে টানাপোড়েন থাকলে প্রতিদিন সকালে ১০–২০ বার পড়া খুব উপকারী।
- ভয়, দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপের সময়
শান্ত গলায় কয়েকবার পড়লেই মনে স্বস্তি আসে।
ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম কি ইসমে আজম?
“ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম” সম্পর্কে অনেক আলেমের মত হলো-এটি ইসমে আজমের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ও মহিমান্বিত একটি দোয়া। যদিও সুনিশ্চিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট বাক্যকে ইসমে আজম বলা হয়নি, তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) কিছু দোয়ার মধ্যে এমন গুণ ও মর্যাদা উল্লেখ করেছেন যা ইসমে আজমের বৈশিষ্ট্য বহন করে। তার মধ্যে এই বাক্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে আল্লাহর দুই মহান গুণ-মহিমা (জালাল) এবং অনুগ্রহ (ইকরাম)-একসাথে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলেমদের মতে, যে দোয়ায় আল্লাহর গুণবাচক নাম এভাবে সম্বোধন করা হয়, সেই দোয়া আল্লাহর কাছে দ্রুত গ্রহণযোগ্য হয়। তাই “ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম” যদিও সরাসরি ইসমে আজম বলে নির্ধারিত নয়, তবুও এর মর্যাদা, গভীরতা ও দোয়ায় গ্রহণযোগ্যতার সম্ভাবনা অত্যন্ত উচ্চ।
একটি ছোট গল্প
একবার আমার এক পরিচিত ভাই বলছিলেন-চাকরি নিয়ে খুব টেনশন চলছিল। যত চেষ্টা করছেন, ততই সমস্যায় পড়ছেন। একদিন তার এক আলেম শিক্ষক তাকে বললেন-
“তুমি নিয়ম করে দোয়ার আগে ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম বলো। আন্তরিকভাবে বললেই আল্লাহ তোমার জন্য দরজা খুলে দেবেন।”
ভাইটি কথাটা খুবই সাধারণ ভেবেছিলেন। কিন্তু তারপরও প্রতিদিন সকাল-বিকাল পড়তে শুরু করেন। এক সপ্তাহ পরে হঠাৎ অপ্রত্যাশিতভাবে একটি ভালো চাকরির অফার পেয়ে যান।
তিনি বলেছিলেন-“আমি বুঝলাম, দোয়াটা হয়তো আমার দরজায় বারবার কড়া নাড়ছিল।”
এই গল্পটি প্রমাণ করে-দোয়া শুধু মুখের শব্দ নয়, বিশ্বাস ও নিয়মিত আমল করলে আল্লাহ দরজা খুলে দেন।
ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম-কীভাবে আমল করবেন?
আমল খুবই সহজ-কিন্তু ধারাবাহিকতা জরুরি।
- প্রতিদিন সকালে ২১ বার
রিজিকে বরকতের জন্য উপকারী।
- রাতে ঘুমানোর আগে ১১ বার
মানসিক শান্তি আসে।
- নামাজের পর ৩ বার
দোয়ার দরজায় কড়া নাড়ার সুন্দর অভ্যাস।
- সমস্যা বা কষ্টের সময়ে
যখন মন ভেঙে যায়, তখন শুধু বলুন-
“ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম।”
এমনিই মনে একটু শান্তি নেমে আসবে।
নামাজে ‘ইয়া যুল জালালি ওয়াল ইকরাম’ কিভাবে ব্যবহার করা হয়?
নামাজের মধ্যে “ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম” সাধারণত দোয়ার সময় ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে সালাম ফেরানোর পর নিজের প্রয়োজন-মতো দোয়া শুরু করার আগে এই বাক্যটি বলা খুবই পছন্দনীয় সুন্নত। কারণ এতে আল্লাহর মহিমা, ক্ষমতা এবং অনুগ্রহকে স্মরণ করা হয়। নামাজ শেষে কেউ যখন দোয়া শুরু করার জন্য হাত তোলে, তখন প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করে “ইয়া যুল জালালি ওয়াল ইকরাম” বলা দোয়াকে আরও বেশি ভদ্র ও বিনয়পূর্ণ করে তোলে।
অনেক আলেম বলেন-এভাবে আল্লাহর গুণবাচক নাম ধরে ডাকলে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই আপনি চাইলে ফরজ নামাজের পরে কিংবা গভীর রাতে তাহাজ্জুদ নামাজের পর দোয়া শুরু করার আগে ধীরে ধীরে কয়েকবার এই বাক্যটি পড়তে পারেন। এতে দোয়ার একটি সুন্দর সূচনা হয় এবং মনেও একধরনের শান্তি নেমে আসে।
এই দোয়া পড়ার সময় কিছু ছোট নির্দেশনা
-
মনোযোগ রেখে পড়তে হবে
-
মুখের অর্থ মনে রাখতে হবে
-
দোয়ার পরে আল্লাহর কাছে নিজের চাওয়া স্পষ্টভাবে বলতে হবে
-
যেকোনো বৈধ চাওয়া, হালাল চাহিদা-সবই বলা যাবে
নামাজে ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরামের শক্তি
নামাজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। নামাজের সময় আমরা আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করি। এই সময় দোয়া করার মাধ্যমে আমাদের হৃদয় আরও শান্ত হয়, মনোবল বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর নৈকট্য অনুভূত হয়। বিশেষভাবে “ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম” দোয়াটি নামাজের মধ্যে উচ্চারণ করলে তার এক অনন্য শক্তি প্রকাশ পায়।
এই দোয়া উচ্চারণ করলে মনোযোগ ও হৃদয়ের গভীরতা বৃদ্ধি পায়। এটি শুধুমাত্র মুখের উচ্চারণ নয়, বরং একটি অন্তরনিহিত ভরসা ও শান্তি প্রদান করে। নামাজের প্রতিটি রাকাতের পরে বা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এটি পড়লে আল্লাহর বরকত এবং রহমতের অনুভূতি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
দোয়ার মাধ্যমে আমাদের জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও কষ্ট থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে নামাজের সময় যখন আমরা আল্লাহর কাছে নিজের আকুতি প্রকাশ করি, এই দোয়া আমাদের হৃদয়কে দৃঢ়তা ও স্থিরতা দেয়। অনেক আলেমের মতে, এই নামাজের দোয়া নিয়মিত পড়লে রোজকার জীবনের মানসিক চাপ হ্রাস পায় এবং দোয়ার কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
নামাজের সময় “ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম” উচ্চারণ করার কিছু উপকারিতাঃ
-
মন শান্ত হয় এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়
-
আল্লাহর নৈকট্য অনুভূত হয়
-
দৈনন্দিন কাজ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বরকত বৃদ্ধি পায়
-
কষ্ট, উদ্বেগ ও হতাশা দূর হয়
-
দোয়ার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়
আপনি চাইলে নামাজের শেষ তাশাহুদ বা কোনো ধ্যানের মুহূর্তে এই দোয়া পড়তে পারেন। ধীরে ধীরে অনুভব করবেন-হৃদয় প্রশান্ত হয়, মনে ভরসা আসে, এবং নামাজের প্রভাব আরও গভীর হয়।
এই দোয়া কোন সমস্যায় বেশি কাজে লাগে?
| সমস্যা | কীভাবে উপকার পাওয়া যায় |
|---|---|
| চাকরি/রিজিকের টানাপোড়েন | প্রতিদিন ২১ বার |
| ভয়/উদ্বেগ/টেনশন | রাতে ১১ বার |
| নিজের বা পরিবারের জন্য দোয়া | নামাজ শেষে ৩ বার |
| গুনাহ থেকে তওবা | আন্তরিকভাবে দোয়ার শুরুতে |
‘ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম’ সম্পর্কিত কিছু সাধারণ প্রশ্ন
১) ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম কি ধরনের দোয়া?
এই বাক্যটি আসলে আল্লাহর এক অসাধারণ গুণবাচক নামের অংশ। আল্লাহর মহিমা ও অনুগ্রহের দিকে মনোযোগ এনে দোয়ার সূচনা করলে দোয়া গ্রহণের সম্ভাবনা আরও বেশি জাগ্রত হয়। তাই আলেমরা বলেন-এই শব্দগুচ্ছ দিয়ে দোয়া করা অত্যন্ত মুস্তাহাব।
২) কোন সময়ে এই দোয়া পড়া উত্তম?
তাহাজ্জুদের নরম পরিবেশ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরের প্রশান্ত মুহূর্ত, কিংবা দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতার সময়-এই সকল অবস্থাতেই এই দোয়াটি পড়া অত্যন্ত উপকারী। মন শান্ত থাকে এবং দোয়া কবুলের আশা বাড়ে।
৩) কতবার পড়তে হবে-কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা আছে কি?
শরীয়তে এই দোয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়নি। চাইলে অল্প পড়তে পারেন, চাইলে বেশি। তবে নিয়মিতভাবে পড়ার অভ্যাস করলে হৃদয়ে প্রশান্তি ও তাওয়াক্কুল বাড়তে থাকে।
৪) এই দোয়া কি রিজিক বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে?
অনেক আলেমের বক্তব্য হলো-এই নাম আল্লাহর মহিমা ও অনুগ্রহের দিকে মন টানে, আর আল্লাহর রহমত যেখানে থাকে, বরকতও সেখানেই আসে। তাই রিজিকের প্রসার, কাজে সাফল্য এবং জীবনে সহজতা পাওয়ার জন্য এ দোয়াটি খুবই উপকারী।
৫) কষ্ট বা দুশ্চিন্তার মুহূর্তে শুধু এ দোয়াটিই কি পড়া যায়?
অবশ্যই যায়। হৃদয় যখন ভারী হয়ে আসে, তখন শুধু “ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম” বললেও আল্লাহর কাছে এক শক্তিশালী মিনতি পৌঁছে যায়। এই শব্দগুলো মানুষের অন্তরে ভরসা, আশা এবং শক্তি জাগিয়ে তোলে।
শেষকথা
দোয়া মানুষের জীবনের দরজা খুলে দেয়, আর “ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম” এমন এক মহান নাম যা আল্লাহর শক্তি, দয়া এবং শ্রেষ্ঠত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়। নিয়মিত এই নামটি পাঠ করলে ঈমান দৃঢ় হয়, মন প্রশান্ত হয় এবং আল্লাহর রহমত লাভের পথ সহজ হয়। তাই প্রতিদিনের দোয়া, নামাজ ও ইবাদতের মাঝে এই নামটি অন্তর্ভুক্ত করলে মানুষ আরও আল্লাহর নিকটবর্তী হয়।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ দোয়ার গভীর তাৎপর্য বুঝে তা আমলে নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
[আপনি চাইলে এই আর্টিকেলটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে অন্যদের সচেতন করতে পারেন]
কীভাবে এই আর্টিকেলটি আরও উন্নত করা যায় সে সম্পর্কে আপনার কোনো পরামর্শ থাকলে দয়া করে জানাবেন।
আপনি যদি আরও এই ধরনের গাইড, টিপস বা টিউটোরিয়াল পড়তে চান, তাহলে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের সাইটে https://www.baneswarit.com/ এবং আমাদের ফেসবুক পেজ ভিজিট করুনঃ https://www.facebook.com/profile.php?id=61577238192159
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url