"বিসমিল্লাহ বলার ফজিলত | প্রতিটি কাজে বরকত ও শান্তি পাওয়ার গোপন রহস্য"

“বিসমিল্লাহ” এর ফজিলত — জীবনে বরকত, শান্তি ও রহমতের চাবিকাঠি

আমরা প্রতিদিন কত কাজ করি-খাই, ঘুমাই, কাজ করি, বের হই, কথা বলি, সন্তানকে সময় দিই, ব্যবসায় যাই। কিন্তু একটা বিষয় আমরা প্রায়ই ভুলে যাই-এত কাজের শুরুর আগে যদি একবার থেমে বলা যায় “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”, তাহলে পুরো কাজটাই বদলে যেতে পারে।

শুধু একটি শব্দ…কিন্তু সেই শব্দের গভীরতা অনেক বড়।

মানুষ হিসেবে আমরা কাজ শুরু করার আগে নানা দুশ্চিন্তা অনুভব করি-
“হবে তো?” “ব্যর্থ হব না তো?” “কাজটা ঠিকমতো করতে পারব তো?”

অদ্ভুত হলেও সত্যি-বিসমিল্লাহ বললে এই ভয়গুলো অনেকটাই কমে যায়। মনে এক শান্তি নেমে আসে, মনে হয়-“আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি, তাই ইনশাআল্লাহ সব সহজ হবে।”

"বিসমিল্লাহ বলার ফজিলত | প্রতিটি কাজে বরকত ও শান্তি পাওয়ার গোপন রহস্য"
চলুন এই আর্টিকেলে আমরা জেনে নিই, “বিসমিল্লাহ” এর ফজিলত - জীবনে বরকত, শান্তি ও রহমতের চাবিকাঠি সম্পর্কে।

বিসমিল্লাহ: একটি শব্দ, কিন্তু একটি সম্পূর্ণ দিকনির্দেশনা

আরবি ভাষায় “بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ” এর অর্থ—
“আমি শুরু করছি আল্লাহর নামে, যিনি পরম দয়ালু এবং অশেষ দয়ার অধিকারী।”

এই বাক্যটিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আছে-

  • বিসম - অর্থ “নামে”

  • আল্লাহ - সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা

  • আর-রহমান আর-রহিম - আল্লাহর দুটি বিশেষ গুণের পরিচয়, যার দয়া সীমাহীন

একবার ভেবে দেখুন-

যে বাক্যটি আল্লাহর দয়া ও করুণা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যেকোনো কাজ শুরু করতে বলে, সেটি কতটা শক্তিশালী!

কেন “বিসমিল্লাহ” জীবনের প্রতিটি কাজে বলা উচিত?

১। মনে ভরসা জন্মায়

মানুষ কখনোই ভবিষ্যৎ জানে না।
একটা সিদ্ধান্ত, একটা কাজ, একটা পদক্ষেপ - সবকিছুতেই অনিশ্চয়তা থাকে।

বিসমিল্লাহ বললে মনে হয়-“আমি একা নই। আল্লাহ আমার সঙ্গে আছেন।”

এই বিশ্বাস টুকু মানুষের মনোভাবই বদলে দেয়।

২। কাজে বরকত আসে

একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করবেন-
দুইজন মানুষ একই কাজ করে, কিন্তু একজনের ফলাফলে আল্লাহ বরকত দেন, আরেকজনের হয় না।

বরকত কোনো হিসাবের ব্যাপার নয়-এটা আল্লাহর রহমত।

রাসুল (সা.) বলেছেন-
“যে কাজ আল্লাহর নামে শুরু করা হয় না, তাতে বরকত থাকে না।” (আবু দাউদ)

অর্থাৎ-বিসমিল্লাহ যেকোনো কাজকে নেকিতে পরিণত করে।

৩। মন শান্ত থাকে, দুশ্চিন্তা কমে

বর্তমান সময়ে মানসিক চাপ আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে।
দিনের শুরুতে বা কোনো কাজ শুরুর আগে মাত্র এক সেকেন্ড সময় নিয়ে “বিসমিল্লাহ” বললে হৃদয়ে একটা প্রশান্তি অনুভূত হয়।

অনেক মানুষের অভিজ্ঞতা-
বিসমিল্লাহ বলার পর কাজ সহজ হয়, সিদ্ধান্ত পরিষ্কার হয়, মনও শান্ত থাকে।

৪। শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা

হাদিসে এসেছে-
“খাবার শুরুতে বিসমিল্লাহ না বললে শয়তান সেই খাবারে অংশ নেয়।” (মুসলিম)

এতে বোঝা যায়-
বিসমিল্লাহ শুধু বরকতই আনে না; বরং অদৃশ্য ক্ষতিকারক প্রভাব থেকেও মানুষকে রক্ষা করে।

যে বাড়িতে ঢোকার সময় বিসমিল্লাহ বলা হয়-
সেই বাড়িতে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না। (মুসলিম)

৫। সাধারণ কাজও ইবাদত হয়ে যায়

আমরা কখনোই ভাবি না-ঘুম, খাওয়া, হাঁটা, কথা বলা-এসবও ইবাদত হতে পারে।

কিন্তু বিসমিল্লাহ বললে এই সাধারণ কাজেও নেকি পাওয়া যায়। অর্থাৎ-
এক সেকেন্ডের একটি শব্দ-আমাদের আমলনামা বদলে দিতে পারে।

কুরআনে “বিসমিল্লাহ” এর গুরুত্ব

পুরো কুরআনে ১১৪টির মধ্যে ১১৩টি সূরার শুরুতেই বিসমিল্লাহ আছে
এতেই বোঝা যায়-এর মর্যাদা কত উঁচু।

সূরা নামল (২৭:৩০)-এ আল্লাহ বলেন-

“নিশ্চয়ই এটি সুলায়মানের পক্ষ থেকে এবং এটি শুরু হচ্ছে আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময় ও দয়ালু।”

এখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায়-নবী সুলায়মান (আ.)-ও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ চিঠি বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করেছিলেন।

কোন কাজগুলো বিসমিল্লাহ্ দিয়ে শুরু করলে সবচেয়ে বেশি উপকার হয়?

এগুলোর অনেকটাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত-

  • খাওয়া শুরু করার আগে

  • ঘর থেকে বের হওয়ার সময়

  • গাড়ি/বাইক চালানোর আগে

  • কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে

  • পড়াশোনা শুরু করার সময়

  • কোরআন তিলাওয়াতের আগে

  • সন্তানকে খাওয়ানোর সময়

  • নতুন কাজ শুরু করতে গেলে

  • ঘরে প্রবেশের সময়

  • ঘুমানোর আগে

এগুলো নিয়ম করলে জীবনে বদল আসবেই-এটা অভিজ্ঞতা ও ঈমানদারদের গল্পে বারবার শোনা যায়।

বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে কি করবেন?

খাওয়ার মাঝপথে মনে পড়লে বলবেন - “বিসমিল্লাহ আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু”
অর্থ- “শুরুও আল্লাহর নামে, শেষও আল্লাহর নামে।”

এটি বললে ভুল ক্ষমা হয়ে যায় এবং শয়তান দূরে থাকে।

কেন সন্তানকে ছোটবেলা থেকে বিসমিল্লাহ শেখানো জরুরি?

অনেক মা-বাবা শুধু একটি শব্দ দিয়ে সন্তানকে আল্লাহর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন - “বিসমিল্লাহ”

একটি শিশুকে যদি ছোট থেকেই শেখানো যায়-“কোনো কাজ আমি আল্লাহর নামে শুরু করি”-
তাহলে সে বড় হওয়ার পর সিদ্ধান্তে ভুল করে না, আচরণে নরম হয়, এবং জীবনে বরকত অনুভব করে।

এটাই অভ্যাস হিসেবে সবচেয়ে বড় উপহার।

একটি ছোট গল্প

রাজশাহীর এক বৃদ্ধ আলেম একদিন বলছিলেন-

“বাবা, জীবনে যত বিপদ এসেছে, আমি দেখেছি বিসমিল্লাহ বলা কাজগুলোতে আল্লাহ সবসময় দরজা খুলে দিয়েছেন।
অনেক সময় মনে হয়েছে-আজ হয়তো কাজটা হবে না, কিন্তু বিসমিল্লাহ বলেই শুরু করেছি, আর আল্লাহ মনে যেন শক্তি ঢেলে দিয়েছেন।”

এটা শুধু তাঁর গল্প নয়, হাজারো মানুষের অভিজ্ঞতা।

বিসমিল্লাহ্ বলার ফজিলত এর প্রশ্নোত্তর

১। বিসমিল্লাহ এর প্রধান ফজিলত কী?

বিসমিল্লাহ বললে আল্লাহর সাহায্য, বরকত, মন শান্তি এবং শয়তান থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। প্রতিটি কাজ কল্যাণময় হয়।

২। কোন কাজে বিসমিল্লাহ বলা সবচেয়ে জরুরি?

খাওয়া, ঘুম, ঘর থেকে বের হওয়া, নতুন কাজ শুরু, যানবাহনে ওঠা, পড়ালেখা-প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিসমিল্লাহ বলা অত্যন্ত জরুরি।

৩। বিসমিল্লাহ ভুলে গেলে কি বলতে হয়?

হাদিস অনুযায়ী যদি কেউ খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ ভুলে যায়, তাহলে বলবে-
“বিসমিল্লাহ আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু”।

৪। বিসমিল্লাহ বললে কি রিজিক বৃদ্ধি পায়?

হ্যাঁ, খাবারের আগে বিসমিল্লাহ বললে খাবারে বরকত বৃদ্ধি পায় এবং রিজিক হালাল ও কল্যাণময় হয়।

৫। কেন ছোটবেলা থেকেই শিশুদের বিসমিল্লাহ শেখানো উচিত?

কারণ এটি নৈতিকতা, আদব, ভরসা ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতার শিক্ষা দেয়। এটি শিশুর আচরণকে নম্র ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করে।

৬। বিসমিল্লাহ কি শয়তান থেকে রক্ষা করে?

হ্যাঁ, হাদিসে এসেছে-যে ব্যক্তি ঘরে প্রবেশের সময় ও খাবারের আগে বিসমিল্লাহ বলে, শয়তান তা থেকে দূরে থাকে।

শেষ কথা

“বিসমিল্লাহ” কোনো সাধারণ শব্দ নয়। এটি একজন মুমিনের জীবনের সতর্কবার্তা, রক্ষাকবচ, ভরসা, দোয়া এবং নির্দেশনা-সব একসঙ্গে। মাত্র এক সেকেন্ড লাগে, কিন্তু ফল থাকে সারাজীবন।

আজ থেকেই চেষ্টা করুন-যেকোনো কাজের শুরুতে বলুন, “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।”

আপনি নিজেই অনুভব করবেন-জীবন বদলে যাচ্ছে, মনের শান্তি বাড়ছে, আর আল্লাহর রহমত দরজা খুলে দিচ্ছে একের পর এক।

[আপনি চাইলে এই আর্টিকেলটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে অন্যদের সচেতন করতে পারেন] 

কীভাবে এই আর্টিকেলটি আরও উন্নত করা যায় সে সম্পর্কে আপনার কোনো পরামর্শ থাকলে দয়া করে জানাবেন। 

আপনি যদি আরও এই ধরনের গাইড, টিপস বা টিউটোরিয়াল পড়তে চান, তাহলে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের সাইটে  https://www.baneswarit.com/ এবং আমাদের ফেসবুক পেজ ভিজিট করুনঃ

https://www.facebook.com/profile.php?id=61577238192159

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url